18 জন দেখেছেন
"সাধারণ জ্ঞান" বিভাগে করেছেন (7,119 পয়েন্ট)

2 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ

সুখ একটি মানবিক অনুভূতি। সুখ মনের একটি অবস্থা বা অনুভূতি যা ভালোবাসা, তৃপ্তি, আনন্দ বা উচ্ছ্বাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। জৈবিক, মানসিক, মনস্তাত্ত্বিক, দর্শনভিত্তিক এবং ধার্মিক দিক থেকে সুখের সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং এর উৎস নির্ণয়ের প্রচেষ্টা সাধিত হয়েছে। সঠিকভাবে সুখ পরিমাপ করা অত্যন্ত কঠিন। গবেষকেরা একটি কৌশল উদ্ভাবন করেছেন যা দিয়ে সুখের পরিমাপ কিছুটা হলেও করা সম্ভব। মনোবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞরা তাত্ত্বিক মডেলের ভিত্তিতে সুখ পরিমাপ করে থাকেন। এই মডেলে সুখকে ইতিবাচক কর্ম ও আবেগসমূহের সমষ্টি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া এক্ষেত্রে তিনটি বিশেষ অবস্থাকেও বিবেচনা করা হয়: আনন্দ, অঙ্গীকার এবং অর্থ।


গবেষকগণ কিছু বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করেছেন যেগুলো সুখের সাথে পারস্পরিকভাবে সম্পর্কযুক্ত: বিভিন্ন সামাজিক সম্পর্ক, বহির্মুখী বা অন্তর্মুখী অবস্থা, বৈবাহিক অবস্থা, স্বাস্থ্য, গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা, আশাবাদ, ধর্মীয় সম্পৃক্ততা, আয় এবং অন্যান্য সুখী মানুষের সাথে নৈকট্য।


সমাজে ধনী,গরিব,সুখী,অসুখী; বিভিন্ন ধাঁচের মানুষের বসবাস।তবে বর্তমানে সুখী মানুষ খুঁজে পাওয়া সোনার পাথর বাটির মতো। সকলেই সুখী হতে পারে না। তবে সুখী হতে পয়সা লাগে না। নিজের ইচ্ছা থাকলে অবশ্যই সুখী হওয়া সম্ভব। নিজের যতটুকু আছে তন্মধ্যে সন্তুষ্ট থাকলে, আনন্দ খুঁজে পেলে সুখী হওয়া কঠিন কিছু না। সুখ একটা আপেক্ষিক ব্যাপার।


তবে মনে রাখতে হবে, ধনবান ব্যক্তি হলেই সুখী হওয়া যাবে, তা নয়। ছোট কুটিরেই সুখ লাভ করা যায়।


সংজ্ঞা

দর্শনশাস্ত্র এবং ধর্মীয় চিন্তাবিদরা প্রায়ই আবেগের পরিবর্তে একটি ভালো জীবন বা সমৃদ্ধশালী জীবনধারণের ক্ষেত্রকে সুখ হিসাবে সংজ্ঞায়িত করেন । এই অর্থে সুখকে অনুবাদ করার জন্য গ্রিক eudaimonia ব্যবহৃত হতো, এবং এখনও নৈতিকতার নীতিতে ব্যবহার করা হয়। সময়ের সাথে সাথে একটি পরিবর্তন হয়েছে যেখানে গুনের সাথে সুখের সম্পর্কের চেয়ে সুখের সাথে গুনের সম্পর্কের উপর বেশি জোর দেয়া হচ্ছে । সহস্রাব্দ ঘুরে আসার পর থেকে, বিশেষ করে অমর্ত্য সেনের মানবিক বিকাশের পদ্ধতিটি উন্নত হয়েছে তার ফলে মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ের উপর আগ্রহ বেড়ে গেছে । বিশেষত মার্টিন সেলিগম্যান, এড ডায়নার এবং রুউৎ ভেনহোভেনের কাজ, এবং পল আনন্দ এর আন্তর্জাতিক উন্নয়ন এবং চিকিৎসা গবেষণায় ব্যাপক অবদানের ফলে এই বিষয়ের গুরুত্ব বেড়ে যায় ।


১৭৭৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থমাস জেফারসন দ্বারা লিখিত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি ব্যাপকভাবে আলোচিত রাজনৈতিক মূল্যবোধ ছিল কারণ তিনি উল্লেখ করেছিলেন, "সুখের অনুধাবন করা" একটি সর্বজনীন অধিকার । মনে হচ্ছে এটি একটি বিষয়ভিত্তিক ব্যাখ্যা করার কথা বলে তারপরেও তা একাই আবেগ অতিক্রম করে । আসলে, এই আলোচনাটি প্রায়শই সহজ ধারণার উপর ভিত্তি করে চলতেছে যে সুখ শব্দটি একই জিনিস বোঝায় যা ১৯৭৬ সালে ছিল এবং আজও তাই আছে । প্রকৃতপক্ষে, অষ্টাদশ শতকে সুখ বলতে বুঝাতো "সমৃদ্ধি, উন্নতি এবং সুস্থতা"।


আজকাল সুখ একটি ঝাপসা ধারণা এবং ভিন্ন ভিন্ন লোকের কাছে তার অর্থ ভিন্ন মনে হতে পারে । সুখের বিজ্ঞান একটি বড় চ্যালেঞ্জ হল সুখ নিয়ে বিভিন্ন ধারণা চিহ্নিত করা এবং যেখানে প্রযোজ্য সেই অনুযায়ী তাদের উপাদানগুলিকে বিভক্ত করা । প্রাসঙ্গিক ধারণাগুলি হচ্ছে সুস্থতা, জীবনের মান এবং সমৃদ্ধি । অন্তত একজন লেখক সুখকে তুষ্টি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন । কিছু ভাষ্যকার আনন্দবাদী ঐতিহ্যের মাধ্যমে সুখকে অনুসন্ধান এবং অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতাগুলোকে অবজ্ঞা করার মাধ্যমে ইউডামোনিক উপায়ে জীবনকে পুরোপুরি এবং গভীরভাবে ও পরিতৃপ্তির সাথে উপভোগ করার উপর বেশি জোর দেন।


২০১২ সালের ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ব্যক্তিগত কল্যাণমূলক পদক্ষেপে, প্রাথমিক বিশুদ্ধতম জীবনের মূল্যায়ন এবং মানসিক প্রতিবেদনগুলির মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা । সুখকে উভয় জীবন মূল্যায়নে ব্যবহার করা হয়, যেমন "মোটের উপর আপনি আপনার জীবনে কতটা সুখী?" এবং মানসিক প্রতিবেদনে, "এখন আপনি কতটা সুখী?" এবং লোকেরা এই ধরনের মৌখিক contexts এ সুখকে উপযুক্তভাবে ব্যবহার করতে পারে বলে মনে হয়। ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস প্রতিবেদনগুলি এই পরিমাপ পদ্ধতিগুলির মাধমে সুখের সর্বোচ্চ স্তরের দেশগুলিকে চিহ্নিত করে ।


গবেষণার ফল

১৯৬০-এর দশক থেকে গ্যারান্টোলজি, সামাজিক মনোবিজ্ঞান, ক্লিনিক্যাল এবং মেডিক্যাল গবেষণা এবং সুখ অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক শাখায় সুখ নিয়ে গবেষণা পরিচালিত হয়েছে । গত দুই দশক ধরে, বৈজ্ঞানিক প্রকাশনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক মনোবিজ্ঞানের ক্ষেত্র ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে এবং বিভিন্ন মতামতের উপর ভিত্তি করে সুখের কারণগুলি এবং যে বিষয়গুলির সাথে সুখের আন্তঃসম্পর্ক আছে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে । সুখের ধারণাকে উন্নত করার জন্য অনেক স্বল্পমেয়াদী স্ব-উদ্যোগের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ।


ব্যাপক অর্থে সুখ হল একটি পরিবারের জন্য আনন্দদায়ক একটি অবস্থা , যেমন আনন্দ, পরিতৃপ্তি, সন্তুষ্টি, উষ্ণতা এবং জয়লাভ । উদাহরণস্বরূপ, সুখ মূলত "অপ্রত্যাশিত ইতিবাচক ঘটনাগুলির মাধ্যমে" , "অন্যদের দেখার মাধ্যমে", এবং "অন্যদের প্রশংসা করা এবং গ্রহণ করা" থেকে আসে। আরও সংকীর্ণভাবে, এটি পরীক্ষামূলক এবং মূল্যায়নযোগ্য সুখের কথা উল্লেখ করে । অভিজ্ঞতাগত সুখ, বা "বিষয়গত সুখ", প্রশ্নের মাধ্যমে যাচাই করা হয় যেমন "এখন আপনার অভিজ্ঞতাটি কতটুকু ভাল বা মন্দ?" পক্ষান্তরে, মূল্যায়ন করার মত সুখ নিয়ে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা যায়, যেমন "আপনার অবকাশ কতটা ভাল ছিল?" এবং অতীত সুখ সম্পর্কে একজন ব্যক্তির বিষয়ভিত্তিক চিন্তা এবং অনুভূতিগুলি পরিমাপ করার চেষ্টা করে । পরীক্ষামূলক সুখ কম ত্রুটিপূর্ণ যা মেমরির মাধ্যমে পুনরুৎপাদন সম্ভব । কিন্তু সুখের উপর ভিত্তি করে লেখা বেশিরভাগ সাহিত্য মূল্যায়নের সুফলকে বোঝায় । হিরোস্টিকস দ্বারা সুখ পরিমাপের সাথে দুইটি বিষয় জড়িত থাকতে পারে, যেমন peak-end rule এর কথা বলা যেতে পারে ।


সুখ পুরোপুরি বহিরাগত বিষয় নয় এমনকি মুহূর্তের আনন্দ থেকেও তা প্রাপ্ত হয় না । প্রকৃতপক্ষে, প্রচলিত ধারণায় সুখ দ্রুতগামী বলা সত্ত্বেও গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে সময়ের সাথে সাথে সুখ স্থিতিশীল হয় । সুখ আংশিকভাবে জিনগত । যমজ গবেষণা করে প্রাপ্ত তথ্য থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, মানুষের সুখ স্তরের ৫০ শতাংশ জিনগতভাবে নির্ধারিত হয়, ১০ শতাংশ জীবনের চলমান পরিস্থিতি এবং অবস্থা দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং অবশিষ্ট ৪০ শতাংশ সুখ আত্মনিয়ন্ত্রণের বিষয়।


এ্যাক্রোনিম পিইআরএমএ সুখের সাথে সম্পর্কযুক্ত পাঁচটি বিষয়কে সংক্ষেপ করে:


১. আনন্দ (সুস্বাদু খাদ্য, উষ্ণ বাথ, ইত্যাদি), ২. যোগদান (বা প্রবাহ, একটি উপভোগ্য কার্যকলাপ যা এখনো চ্যালেঞ্জিং পর্যায়ে আছে), ৩. সম্পর্ক (সামাজিক সম্পর্ককে সুখের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য নির্দেশক বলা যায় ), ৪. অর্থ (একটি অনুভূতির খোঁজ করা বা বড় কিছুর সাথে সম্পর্কিত), এবং ৫. অর্জন (বাস্তব লক্ষ্য উপলব্ধি করা)


এবং বিশেষ করে পিতা-মাতার সাথে সম্পর্কযুক্ত ভালোবাসার ক্ষমতা এবং পারষ্পরিক সংযুক্তি যা মানুষের জীবনে সুখের একটি দৃঢ় অবস্থার কথা বলে ।


মস্তিষ্কের বামদিকের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের উচ্চ কার্যকলাপের দিকে লক্ষ্য করে বুঝা যায় যে এই অংশটির সাথে মানুষের সুখানুভূতির আন্তঃসম্পর্ক আছে ।


এটি যুক্তিযুক্ত করা হয়েছে যে টাকার মাধ্যমে কার্যকরভাবে সুখ কিনতে পারা যায়না যদি না একে সুনির্দিষ্ট উপায়ে ব্যবহার করা হয় । " এটি ছাড়াও ব্যক্তিদের পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ আছে যার মাধ্যমে তারা সহজেই খাবার কিনতে পারে, নতুন কাপড় পরিধান এবং ঘর বাড়ি বানাতে পারে" - এমনকি অনেক লোকের বেশি অর্থ আছে যা তাদের সামান্য সুখী করতে পারে । " " অন্যদের জন্য অর্থ ব্যয় করে সত্যিই আমরা অনেক সুখ অনুভব করি কিন্তু নিজেদের জন্য ব্যয় করলে ততটা করিনা "।

করেছেন (7,119 পয়েন্ট)
ধর্ম কীভাবে সুখের সাথে সম্পর্কযুক্ত তা নিয়ে কিছু গবেষণা করা হয়েছে । সাধারণ সম্পর্ক অস্পষ্ট, কিন্তু ধর্মের মধ্যে মানুষকে বেশি সুখী দেখা যায় । PERMA এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, ধর্ম নিজের চেয়ে আরও ব্যাপক অর্থবোধক এবং সংযোগের অনুভূতি প্রদান করতে পারে । ধর্ম মানুষকে সাম্প্রদায়িক সদস্যপদ দিতে পারে যা সাধারণ সম্পর্ক থেকেও বেশি শক্তিশালী । অন্য একটি উপাদান এর কথা বলা যায় যা রীতির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ।

মাসলো চাহিদার অনুক্রমের একটি পিরামিড অঙ্কন করেছেন যা মানবিক চাহিদা, মানসিক এবং শারীরিক মাত্রার চিত্র তুলে ধরে । যখন একজন মানুষ পিরামিডের ধাপে উঠবে, সে আত্মতৃপ্তির চূড়ান্ত পর্যায় পৌঁছবে । প্রয়োজন পূরণের রুটিনের বাহিরে, Maslow অসাধারণ অভিজ্ঞতার মুহূর্তের কথা বলেছেন যা চূড়ান্ত অভিজ্ঞতা হিসাবে পরিচিত । তাছাড়া প্রেমের গভীর মুহূর্ত, বোঝা, সুখ, বা পরমানন্দ যার ফলে একজন ব্যক্তি অনুভব করে আরও পুরো, জীবিত, স্বয়ংসম্পূর্ণ, এবং নিজেকে বিশ্বের একটি অংশ হিসেবে অনুভব করে । এটি মিহালি সি্স্কসজেন্টমিহালি প্রবাহ ধারণার অনুরূপ।

স্ব-সংকল্প তত্ত্ব তিনটি চাহিদার সাথে সম্পর্কিত: দক্ষতা, স্বায়ত্তশাসন এবং সংশ্লিষ্টতা।

বিশ্বব্যাপী ক্রস বিভাগীয় গবেষণাগুলি সুখের সাথে ফল এবং শাক-সবজি খাওয়ার একটি সম্পর্ককে সমর্থন করে । প্রতিদিন ফল এবং শাক-সবজি খাওয়াকে "খুব খুশি" হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে । তারা মনে করেন ফল এবং শাক-সবজি খাওয়া ও সুখের মধ্যে একটি শক্তিশালী এবং ইতিবাচক পারস্পরিক সম্পর্ক আছে ।" দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, চিলি, ইউএসএ, বা ইউকে তে ব্যাপক হারে ফল এবং উদ্ভিজ্জ ব্যবহারে অধিক সুখের সাথে ইতিবাচক সহযোগিতা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে । ধূমপান, ব্যায়াম, বডি মাস ইনডেক্স এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক বিষয়গুলিও সুখের সাথে জড়িত ।

Layard এবং অন্যান্যরা দেখান যে সুখের উপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে মানসিক স্বাস্থ্য ।

ব্রাহ্ম কুমারী রাজা যুগ ব্যায়ামে ধ্যানকারীদের উপর অক্সফোর্ডের সুখের প্রশ্নাবলী ব্যবহার করে একটি গবেষণার মাধ্যমে দেখা গেছে নিয়ন্ত্রিত গ্রুপের চেয়ে অনিয়ন্ত্রিত গ্রুপের লোকেরা বেশি সুখী । Yongey Mingyur Rinpoche বলেছেন যে স্নায়ু বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণায় লক্ষ্য করেছেন যে ধ্যানের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি তার সুখের বেসলাইন পরিবর্তন করতে পারেন।

ধর্ম

ধর্ম এবং সুখ নিয়ে অনেক গবেষক গবেষণা করেছেন হয়েছে। ধর্মীয় বিষয় সুখের উপাদান হিসাবে অনেক বৈশিষ্ট্য উপস্থাপন করে যা ইতিবাচক মনোবিজ্ঞান দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে। সুখের সাথে সংগঠিত ধর্মের সামাজিক সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রার্থনা এবং বিশ্বাস দ্বারা স্নায়বিক সুবিধা লাভ করা যায় ।

অনেক বিষয় আছে যা দ্বারা ধর্ম একজন ব্যক্তিকে নেক সুখী করতে পারে, এমনকি সামাজিক যোগাযোগ এবং সমর্থন যা ধর্মীয় pursuits থেকে পাওয়া যায়। তাছাড়া মানসিক কার্যকলাপ যা আশাবাদ এবং স্বেচ্ছাসেবী বিষয়ের সঙ্গে জড়িত, কি কৌশলের মাধ্যমে মানসিক চাপ মোকাবেলা করা যাবে এর ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।" এটাও হতে পারে যে ধার্মিক লোকেরা ভাল স্বাস্থ্য সম্পর্কিত আচরণ যেমন পদার্থের কম অপব্যবহার করে, যেহেতু মনস্তাত্ত্বিক পদার্থের ব্যবহারকে কখনও কখনও অপব্যবহার বলে মনে করা হয়।

The Handbook of Religion and Health এ Feigelman (১৯৯২) দ্বারা পরিচালিত একটি জরিপের বর্ণনা দিয়েছেন যে, যারা ধর্মকে ছেড়ে দিয়েছে এমন আমেরিকানদের মধ্যে সুখ নিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে , যেখানে এটি পাওয়া গিয়েছে যে ধর্মীয় অধিভুক্তি বাতিল ও অসুখের মধ্যে সামান্য সম্পর্ক রয়েছে । কসমিন ও লচম্যান (১৯৯৩) তাদের গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ধর্মের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের তুলনায় যাদের ধর্মের সাথে কোন সম্বন্ধ নেই তাদের বিষণ্ণতা উপসর্গের ঝুঁকিµ অনেক বেশি । ১৪৭ টি স্বাধীন তদন্তকারীর গবেষণায় দেখা গেছে, "ধর্মীয়বোধ এবং বিষণ্নতাগত উপসর্গগুলির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ছিল -.০৯৬, যা ইঙ্গিত দেয় যে, বৃহত্তর ধর্মীয়বোধ হালকাভাবে কম উপসর্গের সাথে জড়িত।"

ল্যাজাটুম প্রসপারিটি ইনডেক্স সুখের বিজ্ঞান নিয়ে যে গবেষণা পরিচালনা করেছে সেই গবেষণায় এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে ধর্মীয় সংযুক্তি ও সুখের সাথে একটি ইতিবাচক লিংক আছে: যারা এই রিপোর্ট করে যে, তাদের জীবনে ঈশ্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তারা তাদের জীবনে অনেক বেশি সন্তুষ্ট থাকে, তাদের আয়, বয়স এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য হিসাব করার পরও । গালাপের জরিপ, জাতীয় মতামত গবেষণা কেন্দ্র এবং প্যা অর্গানাইজেশন এই উপসংহারে পৌঁছেছে যে আধ্যাত্মিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ব্যক্তিরা অন্তত ধর্মীয়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ব্যক্তিদের তুলনায় "খুব খুশি" হওয়ার রিপোর্টের দ্বিগুণ। ২০০ টিরও বেশি সামাজিক গবেষণার বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, "উচ্চ ধার্মিকতা বিষণ্ণতা এবং মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার এবং আত্মহত্যার ঝুঁকির পরিমাণ কমিয়ে দেয়, শুধু তাই নয় যৌন জীবন এবং সন্তুষ্টির দিক থেকেও তারা অনেক এগিয়ে আরও । তবে ধর্ম এবং সুখের মধ্যে সম্পর্ক ধর্মগ্রন্থের উপর সর্বদা নির্ভরশীল । ধর্ম এবং যন্ত্রণা এর মধ্যে অনেক বড় সংযোগ রয়েছে " (লিঙ্কন ১০৩৪) । এবং ৪৯৮ টি সমীক্ষা পত্রিকায় প্রকাশিত গবেষণা পর্যালোচনা করে উপসংহারে এসেছেন যে, একটি ইতিবাচক পারস্পরিক সম্পর্ক দেখিয়েছে বড় সংখ্যার ধর্মীয় প্রতিশ্রুতি সাথে অনুভূত সুখ এবং আত্মসম্মান এবং নিম্ন রক্তচাপ, বিষণ্ণতা, এবং ক্লিনিকাল কর্তব্যে অবহেলা বিষয় গুলো জড়িত । ১৯৯০ এবং ২০০১ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশিত ৩৪ টি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, ধার্মিকতার মানসিক সমন্বয়ের সাথে একটি ভাল সম্পর্ক রয়েছে, কম মানসিক অসুস্থতা, আরও বেশি জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি এবং ভাল আত্ম-তুষ্টি লক্ষ্য করা গেছে । অবশেষে, ৮৫০ গবেষণা পত্রের একটি সাম্প্রতিক পদ্ধতিগত পর্যালোচনা করে এই উপসংহারে এসেছিল যে, "বেশিরভাগ সুশৃঙ্খল গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে উচ্চ মাত্রায় ধর্মীয় সম্পৃক্ততার সাথে ইতিবাচকভাবে মনস্তাত্ত্বিক সুখের সূচক (জীবন সন্তুষ্টি, সুখ, ইতিবাচক প্রভাব, এবং উচ্চতর মনোবল) এবং কম বিষণ্ণতা, আত্মঘাতী চিন্তা ও আচরণ, ড্রাগ / অ্যালকোহল এর ব্যবহার / অপব্যবহার সহ বিষয়গুলি সম্পৃক্ত । "

যাইহোক, পণ্ডিতদের মধ্যে দৃঢ় মতবিরোধ রয়েছে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের প্রভাব বিশেষ করে গির্জায় যোগদান বা অন্যথায় ধর্মীয় গোষ্ঠীর অন্তর্গত হওয়া, আধ্যাত্মিক বা সামাজিক দিকগুলির কারণে মানুষ সুখী হতে পারে কিনা এই সব বিষয় নিয়ে । যারা গির্জা বা অনুরূপ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অন্তর্গত তারা শুধুমাত্র সামাজিক সংযোগের প্রভাবে প্রভাবিত হতে পারে । এই সুবিধাগুলিই যথেষ্ট যা তারা একই বা অন্য ধর্ম নিরপেক্ষ দল, ক্লাব বা অনুরূপ সংস্থাগুলিতে যোগদান করে লাভ করতে পারে।

ত্রাস ব্যবস্থাপনা

টেরর ম্যানেজমেন্ট থিওরিটি বলে যে মানুষ যখন তাদের অনিবার্য মৃত্যুর কথা স্মরণ করে তখন তারা জ্ঞানীয় অসঙ্গতি (উদ্বেগ) ভোগ করে। ত্রাস ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যক্তিকে কিছু প্রতীকী উপাদানের আশ্রয় নিতে প্ররোচিত করা হয় - যা সন্তোষজনকভাবে তাদের মধ্যে মৃত্যু এবং মৃত্যুর অনুভূতি সৃষ্টি করে (যেমন স্ব-মর্যাদা বাড়ানো)।

গবেষণায় পাওয়া গেছে যে ধর্মীয় বা ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থায় দৃঢ় বিশ্বাস মানসিক নিরাপত্তা এবং আশা বৃদ্ধি করে । এটা মধ্যপন্থী (যেমন অজ্ঞেয়বাদী, সামান্য ধর্মপরায়ণ) যারা সম্ভবত কোন কিছুর সঠিক অর্থ কী হবে তা নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ ভোগ করে। ধর্মীয় অর্থব্যবস্থাগুলি বিশেষ করে মৃত্যু বা মৃত্যু সম্পর্কিত উদ্বেগ পরিচালনা করার জন্য অভিযোজিত হয় যা (বিভিন্ন কারণে) অসম্ভব বলে মনে করা হয় । সব কিছু এর সাথে জড়িত এবং তারা আক্ষরিক অমরত্বেরও প্রতিশ্রুতি দেয়।

মানসিক প্রভাবগুলি উপকারী বা প্রতিকূল কিনা তা বিশ্বাসে প্রকৃতির সাথে পরিবর্তিত হয় বলে মনে হয়। দয়ালু ঈশ্বরকে বিশ্বাস এর মধ্যে সাধারণ উদ্বেগ, সামাজিক উদ্বেগ, paranoia, প্রবৃত্তি, এবং আবেশ যুক্ত থাকে । যদিও একটি শাস্ত্রীয় ঈশ্বরের বিশ্বাস সঙ্গে জড়িত । (একটি বিকল্প ব্যাখ্যা হল যে মানুষ তাদের মানসিক অবস্থা ও আবেগের সাথে মিলে যায় এমন বিশ্বাস খুঁজে বেড়ায় ।)

বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলির নাগরিকরা বেশি ধর্মপরায়ণ হয়ে থাকে । গবেষকরা এই কারণেই ধর্মের মাধ্যমে যেকোনো বিষয়ের সাথে মানুষ নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে সেই শক্তিশালী কৌশলের ক্ষমতার কথা বার বার বলে থাকেন। লিউক গ্যালেন ত্রাস ব্যবস্থার তত্ত্বকেও সমর্থন করে যা উপরের ফলাফলগুলির একটি আংশিক ব্যাখ্যা । Galen প্রমাণ (তার নিজের গবেষণা সহ) বর্ণনা করে যে ধর্মের সুফল একটি সামাজিক গ্রুপের সদস্যপদ এবং দৃঢ় বিশ্বাসের কারণে পাওয়া যায় ।
0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
সুখ একটি মানবিক জিনিস।ধনি হলে ও সুখি হওয়া যাই না সুখি হতে হলে মন লাগে।
করেছেন (3,829 পয়েন্ট)

সংশ্লিষ্ট প্রশ্নসমূহ

1 টি উত্তর
06 জানুয়ারি "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন মোঃ নুর আলম (22,324 পয়েন্ট)
1 টি উত্তর
10 এপ্রিল 2020 "বাংলা ব্যাকরণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন মোঃ নুর আলম (22,324 পয়েন্ট)
1 টি উত্তর
09 নভেম্বর 2019 "ইংরেজি" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Mrinmoy (24,961 পয়েন্ট)
1 টি উত্তর
11 অক্টোবর 2019 "যৌন" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন অজ্ঞাতকুলশীল
1 টি উত্তর
1 টি উত্তর
31 জানুয়ারি "সাধারণ জ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Md. Redowan Islam (20,687 পয়েন্ট)
...