21 জন দেখেছেন
"ধর্ম ও বিশ্বাস" বিভাগে করেছেন (7,050 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
ধর্মগুলো মানবসৃষ্ট। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য ধর্মীয় বইগুলো মানবসৃষ্ট নয়। আমার ব্যাক্তিগত অনুসন্ধান বলে বাইবেল, বেদ অথবা কুরআন সবগুলোতেই এমন কিছু বিষয় আছে, বৈজ্ঞানিক তথ্য আছে যেগুলোর কোনো ব্যাখ্যা নেই । দর্শন আমার কাছে খুবই ভয়ানক বলে মনে হতো। কারণ চিরস্থায়ী নরক বলে একটা জায়গা আছে।

আমি ভীষণ সংশয়বাদী ছিলাম, আমার অনুসন্ধান মতে বাইবেল, বেদ অথবা নাস্তিকদের লেখা বইগুলো মানবসৃষ্ট হলেও কুরআনের সোর্স কোনো মানুষ হতে পারে না। কারণসমূহ নিম্নরূপ:-

Falsification test: কুরআনে একটি ভুল বের করা, কিংবা কুরআনের মতো একটা বই তৈরি করা এবং মানুষকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাসহ এমন কিছু challenge মানুষের প্রতি ছুড়ে দেওয়া হয়েছে যা আমার মতে মানুষ কখনোই করতে পারবে না।

Scientific miracle: কুরআন যেহেতু বিজ্ঞানের বই না এবং ১৪০০ বছর আগের, সেহেতু অনেক লেখাই unscientific বলে মনে হয়(তবে তেমন তীব্রভাবে নয়)। কিন্তু আমি প্রায় ২০-৩০ টি এমন কিছু লেখা পেয়েছি, যার কোনো ব্যাখ্যা নেই। এমনকি চুরি করার সম্ভবানা ০.০০০০১% এরও কম। এমনকি বেদ, বাইবেলেও বৈজ্ঞানিক miracle পেয়েছি।

Historical fact: কিছু ভবিষ্যতবাণী যেমন: রোমানদের পরাজয়, ইরাব শহর ইত্যাদি। এমনকি প্রত্নাত্ত্বিকরা অনেক সভ্যতা আবিষ্কার করেছে! যেমন: মিশরীয় সভ্যতা, ইউসুফ (আ:) ইত্যাদি।

Linguistic miracle: যেমন: বইটা এমনভাবে কথা বলা হয়েছে যা অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎকালের জন্য প্রযোজ্য, অমুসলিমদের সাথে কথা বলার সময় বক্তা(আল্লাহ) লুকানো, নবীদের এমনভাবে সম্মোধন করা হয়েছে যা সাধারণ মানুষের পক্ষে অসম্ভব। আমি যদিও ভারতীয় কালচারের সাথে কুরআনের সাহিত্যিক মিল লক্ষ করেছি। তবুও তা কুরআনের সাথে তুলনা করার যোগ্য না। বাংলা কুরআনও অনেকটা অনুভূতি দিতে পারে। সূরা বাকারাহ পরে দেখুন।

Mathematical pattern: সম্পূর্ণ কুরআনকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যা একজন মহান গণিতবিদের পক্ষেই সম্ভব। এই mathematical pattern গুলি Co-incidence কিংবা কোনো খলিফার চক্রান্ত হওয়া অসম্ভব। একটা বই suggest করছি। The Golden encyclopedia of the miracle of Quran. Maybe 600 pages.

The prophesies: কল্কি অবতার, পেরাকিল্টাস কিংবা মুহাম্মদ(সা:) সবাই একই ব্যাক্তি। বাইবেল, বেদ কিংবা অন্যান্য অনেক ধর্মীয় গ্রন্থগুলোতে মহানবী সাঃ সম্পর্কে স্পষ্ট ভবিষৎবাণী রয়েছে যিনি কেবল মুসলিমদের জন্যই নয় সমগ্র মানবজাতির জন্য এসেছেন। অনেক অমুসলিম পণ্ডিতও শিকার করেছেন।

The influence he made: যাদের পৃথিবীর ঐতিহাসিক মানুষ সম্পর্কে সামান্য ধারণা আছে তারা একমত হবে(agnostic point of view থেকে) যে তিনিই পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি ধর্মীয় ও নিরপেক্ষ(best politician, খলিফাদের ৭০০ বছরের উপনিবেশ) উভয় দিক থেকে। চিন্তা করুন একজন মানুষ মরুভূমির থেকে এবং নিরক্ষর ছিলেন। চিন্তা করুন একজন খারাপ, লোভী রাজনৈতিক মানুষ আপনাকে বলছে:

পাঁচ ঘণ্টা নামাযে অপচয় করো

এক মাস না খেয়ে থাক

আমার প্রত্যেকটা আদেশ মানতে হবে

মদ খাওয়া যাবে না

যুদ্ধ করতে হবে

মেয়েদের পর্দা করাও।

এমনকি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলাম পৌঁছে গেছে।মুসলিমদেশগুলোতে একটা অস্বাভাবিক পরিবর্তন এনেছে যা দেশগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায়। এটা অন্য ধর্মে ততটা নেই।

The reference: হাদিসগুলোর মধ্য তাকালেই দেখা যাবে হাদীসের হাজার হাজার সনদ এবং বর্ণনাকারী রয়েছে। সাধারন ভাবে ধর্ম মানবসৃষ্ট হওয়ার চান্স 50–50! কিন্তু যখন এই সনদগুলো যোগ করা হবে তখন সম্ভবনা কততে নেবে যায় ভাবুন?

স্রষ্টার সবচেয়ে বড় প্রমাণ কি জানেন? সেটা হচ্ছে হিদায়াত। যা পাওয়া অনেক কঠিন। কিন্তু একবার পেলে কোনো সন্দেহই থাকে না। যেমন: পাখা ঘুরলে বাতাস পাই, শান্তি অনুভব করি। আমরা শান্তি অনুভব করার দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়ে থাকি, কিন্তু পাখা কে ঘোরাচ্ছেন সেদিকে মনোযোগ দিচ্ছি না। তাই সৃষ্টিকর্তা বলেন, “মানুষ উদাসীন। তাদেরকে কি যথেষ্ট নিদর্শন দেখাইনি?(৪১:৫৩)। আরও বলেন, এমনকি তাদেরকে যদি সব নিদর্শনও দেখানো হয় তবুও তারা ঈমান আনবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আযাব না আসে”(১০:৯৬-৯৭)। এই ঈমান ঠিক রাখার জন্যে নামায পড়তে হয়, রোজা রাখতে হয়। এতক্ষন পর্যন্ত এগুলোর মাধ্যমে বুঝাতে চেয়েছি সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব রয়েছে।ইসলামের সত্যতার প্রমাণ কী?

এখন, মানবতা দুই ধরনের। এক, স্রষ্টাহীন মানবতা(যা কখনোই সম্ভব না)। দুই, সত্যিকারের মানবতা যেটা কেবল স্রষ্টাই দিতে সক্ষম। মানুষের জন্য কোনটা ভালো কোনটা মন্দ সেটা মানুষের স্রষ্টাই ভালো জানেন। যেমন: পর্দা, যাকাত, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ইত্যাদি।

ধর্ম বলতে কিছু নেই। ধর্ম হচ্ছে ইউরোপীয় শিক্ষাব্যবস্থার তৈরি এমন একটা কৌশল যা স্রষ্টাকে অস্বীকার করা এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার একটা মাধ্যম । কিন্তু সকল ধর্মীয় বইয়ের সোর্স একই অর্থাৎ একজন স্রষ্টা। তাকে আমার আল্লাহ, ভগবান, God, Jehovah যেকোনো নামে ডাকতে পারি(তবে কোনো মানবীয় গুন ঈশ্বরের মধ্যে থাকবে না)। সকল ধর্মীয় বইয়েই ভালো কথা আছে। যদিও প্রায় সবগুলো বইয়েই মানুষের হস্তক্ষেপ রয়েছে।

অনেকে বলবে, নবী রাসুল আসে না কেন! তাদের জন্য বলব নবী রাসূলগণ মানুষই ছিলেন। তারা মিরাকল দেখাতেন। মূসা (আ) এর সাগর ভাগের ঘটনা এখন গল্প হয়ে গেছে। কিন্তু কুরআন ultimate মিরাকল। আমরা সাধারণ মানুষেরা কুরআন নিয়ে মানুষকে দেখাতে পারি নবী রাসূলদের মত। বেদ, বাইবেল দেখাতে পারি।

আরেকটা কথা, নবী রাসুল বন্ধ হয়ে যায়নি। মসীহ আসবেন।

Christan রা অপেক্ষায় আছে তিনি আল্লাহর পুত্র হয়ে আসবেন, মুসলিমরা অপেক্ষায় আছে মোহাম্মাদ (স) এর উম্মত হিসাবে, ইহুদীরা অপেক্ষায় আছে, নাস্তিকদের মতে তিনি আসবেনই না। দেখা যাক চমক কাদের জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু নিজের প্রতি যারা just, সবসময় ভালো কাজ করে, তারা eventually সত্য পেয়েই যাবে।
করেছেন (7,050 পয়েন্ট)

সংশ্লিষ্ট প্রশ্নসমূহ

1 টি উত্তর
17 ফেব্রুয়ারি 2020 "রিবাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Sajal ojha (33,353 পয়েন্ট)
1 টি উত্তর
13 মে 2020 "সাধারণ জ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন রাকিবুল (19,025 পয়েন্ট)
1 টি উত্তর
13 মে 2020 "সাধারণ জ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন রাকিবুল (19,025 পয়েন্ট)
1 টি উত্তর
26 ডিসেম্বর 2019 "সাধারণ জ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন রাকিবুল (19,025 পয়েন্ট)
1 টি উত্তর
24 ডিসেম্বর 2019 "সাধারণ জ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন রাকিবুল (19,025 পয়েন্ট)
1 টি উত্তর
13 নভেম্বর 2019 "সাধারণ জ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন রাকিবুল (19,025 পয়েন্ট)
1 টি উত্তর
12 নভেম্বর 2019 "সাধারণ জ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন রাকিবুল (19,025 পয়েন্ট)
1 টি উত্তর
07 নভেম্বর 2019 "সাধারণ জ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন James Bond (8,437 পয়েন্ট)
1 টি উত্তর
07 নভেম্বর 2019 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন রাকিবুল (19,025 পয়েন্ট)
1 টি উত্তর
07 নভেম্বর 2019 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন রাকিবুল (19,025 পয়েন্ট)
...