12 জন দেখেছেন
মেজর সিনহা মৃত্যুর রহস্য নিয়ে DGFI ও পুলিশের তদন্ত রিপোর্ট ভিন্ন হবার কারণ কী?
07 আগস্ট "সমসাময়িক" বিভাগে জিজ্ঞাসা

1 উত্তর

স্পষ্টতই এখানে পক্ষ দুটি। সেনা আর পুলিশ; যারা এ ঘটনার পরস্পর বিরোধী। অর্থ্যাৎ একদন বাদী অন্যদল বিবাদী। সেহেতু দুদলের মতামত ভিন্ন হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে এই দূর্ঘটনা নিয়ে বেশ কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে দেখেছি এবং কিছু খটকা আমারও আছে। আমি তালিকা ধরে দিচ্ছিঃ

image

১। শুরুতেই থাকবে এই প্রশ্নটা। যেখানে প্রশ্নকর্তা বলেছেন দুই সংস্থার তদন্ত রিপোর্ট দুরকম কেন? এখানে অস্বাভাবিক ঘটনা হচ্ছে, পুলিশ কিংবা ডিজিএফআই কোন সংস্থাই তদন্ত করেন নি। তদন্ত করছে সরকারের উচ্চ মহল থেকে গঠিত একটা নিরপেক্ষ দল। মেজর (অবঃ) সিনহা রাশেদ এর বোনের করা মামলার তদন্ত হয়ত পুলিশের উপরই আবার ন্যাস্ত হতে পারে। অর্থ্যাৎ যেভাবে লেখা হচ্ছে দুই সংস্থার দুইরকম তদন্ত নিয়ে সেরকম কোন ঘটনা এখনো ঘটেনি। এটা শুধু দুই সংস্থার নিজেদের ভাষ্য।

২। অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা কম্ব্যাট ড্রেস এ কেন? আমি পত্র-পত্রিকাতে যা দেখেছি, তাতে স্পষ্ট যে তিনি কম্ব্যাট ড্রেস নয় বরং কম্ব্যাট টি-শার্ট এ ছিলেন। সাথে কম্ব্যাট প্যান্ট এবং ট্রেকিং সু/কম্ব্যাট সু'তে ছিলেন। একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চাইলেই রেশনে পাওয়া প্যান্ট-শার্ট রেখে দিতে পারেন।

৩। পিএম এর ক্লোজ প্রটেকশনে থাকা একজন কমান্ডো কিভাবে আত্মরক্ষা করতে পারলেন না এই প্রশ্নটাও অনেককে করতে দেখেছি। অথচ যারা এই প্রশ্ন করেছেন তারা হয়ত কেউই জানেন না বা মানেন না "জীবনটা হলিউডের সিনেমা না যে এখানে আপনি জেসন ব্রোউন এর মত অলওয়েজ কম্ব্যাট রেডিনেস অবস্থাতে থাকবেন"। তিনি কি কখনো ভেবেছিলেন যে তার উপর আক্রমন হতে পারে এভাবে? অথচ তিনি যখন এসএসএফ এর দায়িত্ব পালন করেছেন বা সেনাবাহীনিতে কমান্ডো হিসেবে কোন অপারেশন এ দায়িত্ব নিয়েছেন তখন তার ভেতর শতভাগ কম্ব্যাট প্রিপারেশন এবং রেডিনেস থাকতো। মেরিন ড্রাইভে গাড়ি চালানো আর ক্লোজ প্রটেকশনের কাজ শতভাগ ভিন্য।

পুলিশের কতিপয় অতি উৎসাহী সদস্যের কারণে এর আগেও এধরণের ঘটনা ঘটলেও প্রাণহানীর পর্যায়ে যায় নি। আমার জ্ঞান বুদ্ধি হওয়ার পর এধরণের খবর এই প্রথম জানতে পারলাম। এর আগে একজন মেজরকে আইন বহির্ভুত ভাবে গ্রেফতারের খবরে এই দুই সংস্থাকে মুখোমুখি হতে শুনেছি। পরিস্থিতি আবারো তাই হয়েছে শুধু গভীরতা আলাদা।

সিনহা রাশেদ এর মত সেনা সদস্য বা লিয়াকত এর মত পুলিশ সদস্য সবাই এই মহাদূর্যোগে প্রথম সারিতে কাজ করেছেন। সম্মিলিতভাবে জাতির প্রতিটা দুঃখেই এই সংস্থাগুলো এভাবে মিলেমিশে কাজ করুক এটা সবারই কাম্য। এধরণের ঘটনা যেহেতু আগে ঘটেনি সেহেতু একে বিচ্ছিন্য ঘটনা বলাই যায়। এই ঘটনার সুষ্ঠ্য তদন্ত বা বিচার দুইটাই হবে। সে পর্যন্ত কাউকে দোষী না সাবস্ত্য করে অপেক্ষাতে থাকা উচিত। হতেও পারে, সিনহা রাশেদ পুলিশি চ্যালেঞ্জের মুখে পতিত হয়ে একজন দায়িত্ববান মানুষের মত তার লাইসেন্স করা পিস্তল হাতে নিয়ম মাফিক হ্যান্ডস আপ পজিশনে যেয়ে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাকে নিজের পরিচয় দেয়ার চেষ্টা করেছিলেনা। যেটাকে এসআই লিয়াকত আক্রমন ভেবে ভীত হয়ে ফায়ার ওপেন করেন। যেহেতু শুনেছি তাদের কাছে ডাকাত এর খবর এসেছিল।

07 আগস্ট উত্তর প্রদান

সংশ্লিষ্ট প্রশ্নসমূহ

1 টি উত্তর
10 জুন "সমসাময়িক" বিভাগে জিজ্ঞাসা
...