6 জন দেখেছেন
02 মে "হাদীস শরীফ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (71 পয়েন্ট)
02 মে সম্পাদিত করেছেন

1 উত্তর

0 টি ভোট
02 মে উত্তর প্রদান করেছেন (248 পয়েন্ট)

সা'দ ইবনে আবিওয়াক্কাস ইসলামের ইতিহাসে একজন শ্রেষ্ঠ সেনাপতি প্রজ্ঞাশীল রাজনীতিবিদ হিসেবে বিখ্যাত হয়ে আছেন। রাসূলে করিম (সাঃ)-এর জীবদ্দশায় যে কয়েকজন সাহাবি জান্নাতে যাওয়ার শুভ সংবাদ পেয়েছিলেন সা'দ ইবনে আবিওয়াক্কাস তাদের মধ্যে অন্যতম। হযরত সা'দ ইবনে আবিওয়াক্কাস ৫৯১ খৃস্টাব্দে বিখ্যাত কুরাইশ বংশের ‘বনু যুহরা' গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ছিল আবু ওয়াক্কাস এবং মায়ের নাম ছিল হামনা। তার মা-বাবা উভয়ই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। সা'দ ইবনে আবিওয়াক্কাসের সাথে হযরত আবুবকর (রা)-এর ছিল গভীর বন্ধুত্ব। তাই ইসলামের সূচনালগ্নে আবুবকর সিদ্দিক (রাঃ)-এর উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় সা'দ ইবনে আবিওয়াক্কাস ও তার ভাই উমাইর ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার সময় তার বয়স ছিল ২১ বছর। হযরত সা'দের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা সম্বন্ধে বুখারি শরিফে একটি হাদিস বর্ণিত আছে। হযরত আমের ইবনে সা'দ পিতা সা'দ ইবনে আবিওয়াক্কাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি (রাঃ) বলেন, ‘আমার ভালোভাবে স্মরণ আছে, ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী পুরুষদের মধ্যে আমি তৃতীয় ব্যক্তি ছিলাম। হযরত সা'দের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ব্যাপারটি জানাজানি হয়ে গেলে তার মা চেঁচামেচি শুরু করে দেন। তার চেঁচামেচিতে লোকজন জড়ো হয়ে যায়। মায়ের কান্ড দেখে সা'দ ঘরের এক কোণে নীরব অবস্থান গ্রহণ করেন। তার মা কিছুক্ষণ শোরগোল করার পর ছেলেকে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করার জন্য কঠোর নির্দেশ দিলেন। তিনি বললেন, যতক্ষণ না সে মুহম্মদের ধর্ম ত্যাগ করবে, ততক্ষণ আমি কোনো কিছু খাব না এবং রোদ থেকে ছায়াতেও যাব না।' তিন দিন কেটে গেল, সা'দের মা খাবার বা পানীয় কোনো কিছুই স্পর্শ করলেন না, রোদ থেকে ছায়াতেও এলেন না, কারো সাথে কথাও বললেন না। সা'দ বিচলিত হয়ে পড়লেন এবং রাসূলে করিম (সাঃ)-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি অবহিত করলেন। সাথে সাথে পবিত্র কুরআনের আয়াত নাজিল হলো, ‘আমি মানুষকে মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। যদি তারা তোমাকে আমার সাথে এমন কিছুকে শরিক করার পীড়াপীড়ি করে, যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তাহলে তুমি সে বিষয়ে তাদের আনুগত্য কর না। আমার কাছে তোমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে। এরপর আমি তোমাদের জানিয়ে দেব তোমাদের কর্মফল'। [সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত ৮]। পবিত্র কুরআনে এ আয়াতটি নাযিল হওয়ার পর হযরত সা'দ (রাঃ)-এর মনের অশান্তি দূর হলো। ছেলের দৃঢ়তায় হামনার হৃদয় বিগলিত হলো। তিনিও ইসলাম গ্রহণ করলেন। রাসূলে করিম (সাঃ)-এর নেতৃত্বে পরিচালিত প্রায় সকল যুদ্ধে হযরত সা'দ অসীম সাহসকিতা ও বীরত্বের সাথে অংশগ্রহণ করেন। ইসলামের প্রথম যুদ্ধ বদরের যুদ্ধে সা'দ ও তার ভাই উমাইর বীরত্বের সাথে শুরুর বিরুদ্ধে লড়াই করেন। এ যুদ্ধে সা'দের ভাই উমাইর শাহাদাতবরণ করেন। উহুদ যুদ্ধে যখন কয়েকজন মুসলিম সৈনিকের ভুলের কারণে মুসলিম বাহিনী বিপর্যয়ের মুখে পতিত হয়, তখন মুষ্টিমেয় যে কয়েকজন সাহাবি নিজেদের জীবনকে তুচ্ছ মনে করে রাসূল (সাঃ)-এর জীবন রক্ষার্থে শত্রুর বিরুদ্ধে ব্যুহ রচনা করেছিলেন, সা'দ ইবনে আবিওয়াক্কাস তাদের মধ্যে অন্যতম। বুখারি শরিফের এক হাদিসে সেদিনকার ঘটনা হযরত সা'দ (রাঃ) নিজেই এভাবে বর্ণনা করেছেন, উহুদের যুদ্ধ ক্ষেত্রে রাসূল (সাঃ) স্বীয় তীর দান হতে সব তীর আমার সামনে রেখে দিয়ে আমাকে বললেন, ‘তোমার প্রতি আমার মা-বাবা উৎসর্গ হোক, তুমি যথাসাধ্য তীর ছুঁড়তে থাক'। (বুখারি)। আল্লাহ ও রাসূল (সাঃ)-এর অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন সাদ ইবনে আবিওয়াক্কাস (রাঃ)। তার সমর্থনে পবিত্র কুরআনে একাধিক আয়াত নাযিল হয়েছে। বদর যুদ্ধে হযরত সা'দ সাঈদ ইবনে আসকে হত্যা করে তার তলোয়ারটি রাসূল (সাঃ)-এর কাছে জমা দিয়ে আবার সেটি ফেরত চাইলে, রাসূল (সাঃ) সেটি তাঁকে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বললেন, এটি না তোমার, না আমার। রাসূল (সাঃ)-এর জবাব শুনে হযরত সা'দ কিছুদূর যেতে না যেতেই সূরা আনফাল নাযিল হয়। এরপর রাসূল (সাঃ) সাদকে ডেকে তলোয়ারটি ফেরত দিলেন। সা'দ সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে হযরত আলী (রাঃ) বলেছেন, ‘একমাত্র সাদ ইবনে আবিওয়াক্কাস (রাঃ) এমন সৌভাগ্যবান মানুষ যে রাসূল (সাঃ) স্বীয় মাতা-পিতা উৎসর্গ বলে তার সম্পর্কে উক্তি করেছেন। রাসূল (সাঃ) কে অন্য কারো সম্পর্কে এরকম উক্তি করতে শুনিনি। (বুখারি)। একদা হযরত সা'দ কোথাও থেকে আসছিলেন। তিনি নিকটবর্তী হলে রাসূল (সাঃ) বললেন, এই দেখ, আমার মামা, তোমরা কেউ এরকম মামা নিয়ে এসো দেখি। [তিরমিযি] হিজরতের দ্বিতীয় বছরে রাসূল (সাঃ) কুরাইশদের গতিবিধি লক্ষ্য করার জন্য ৬০ জন উষ্ট্রারোহীর এক টহলদল মদিনার উপকণ্ঠে প্রেরণ করেন। হযরত সা'দ এ টহলদলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। এ টহলদল ইকরাম ইবনে আবি জাহেলের নেতৃত্বে কুরাইশদের একটি কাফেলা দেখতে পান। কুরাইশদের কেউ হঠাৎ চিৎকার করে উঠলে সাথে সাথে হযরত সা'দ (রাঃ) তীর নিক্ষেপ করেন। ইসলামের ইতিহাসে এটাই হলো কাফিরদের বিরুদ্ধে কোনো মুসলমানদের ছোঁড়া প্রথম তীর। মদিনার আশপাশে শত্রুদের গতিবিধির ওপর লক্ষ্য রাখতে এবং সেই সাথে মুসলমানদের শৌর্য-বীর্য প্রদর্শন করতে দ্বিতীয় হিজরির রবিউস সানি মাসে মহানবী (সাঃ) ২০০ সাহাবির একটি দল নিয়ে বের হন। এ দলের পতাকাবাহী ছিলেন হযরত সা'দ (রাঃ)। মহানবী (সাঃ)-এর জীবদ্দশায় হযরত বেলাল (রা.)-এর অনুপস্থিতিতে হযরত সা'দ তিনবার আযান দিয়েছিলেন। রাসূল (সাঃ) তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, ‘বেলালের অনুপস্থিতিতে তুমি আযান দেবে'। হযরত উমর (রা.)-এর খেলাফতকালে হযরত আবু ওবায়দা ও মুসান্নার নেতৃত্বাধীন মুসলিম বাহিনী পারস্যের বিশাল ভূভাগ দখল করে ইসলামের পতাকাতলে নিয়ে আসেন। ৬৩৫ খৃস্টাব্দে মুসান্নার নেতৃত্বাধীন মুসলিম বাহিনী কুফার নিকটবর্তী বুয়াবের যুদ্ধে পারস্য বাহিনীকে নির্মমভাবে পরাজিতও বিধ্বস্ত করতে সক্ষম হয়। বুয়াবের যুদ্ধের জয়ের মাধ্যমে মুসলামনরা সেতুর যুদ্ধের পরাজয়ের প্রতিশোধ গ্রহণ করে। বুয়াবের যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হওয়ায় পারস্য সম্রাট তৃতীয় ইয়জদিগার্দ মুসলিম বাহিনীর ওপর প্রতিশোধ গ্রহণকল্পে পারস্যের দুর্ধর্ষ সেনাপতি মহাবীর রুস্তমের নেতৃত্বে ১,২০,০০০ সৈন্যের একটি বিশাল বাহিনী প্রেরণ করেন। খলিফা উমর (রা.) পারস্যের বিশাল বাহিনীর অগ্রসর হওয়ার কথা জানতে পেরে শত্রু বাহিনীকে মোকাবিলা করার জন্য মুসলিম সুদক্ষ সেনাপতি সা'দ বিন আবিওয়াক্কাসের নেতৃত্বে একটি সুশিক্ষিত বাহিনী প্রেরণ করেন। খলিফার আদেশক্রমে সা'দ সমর প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন। সা'দ পারসিকদের তীব্র আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য যুদ্ধ কৌশলে সৈন্যবিন্যাস এবং বিভিন্ন দলে সৈন্য বিভাজন সমাপ্ত করলেন। ৬৩৫ খৃস্টাব্দে কাদেসিয়ার প্রান্তরে সা'দের নেতৃত্বাধীন মুসলিম বাহিনী বিশাল পারসিক বাহিনীর মুখোমুখি হলেন। যুদ্ধের শুরুতে খলিফার নির্দেশে সা'দ পারস্য সম্রাটকে ইসলাম গ্রহণের আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু পারস্য সম্রাট ইসলাম গ্রহণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং মুসলিম দূতকে অপমান করে তাড়িয়ে দেন। পারস্য সেনাপতি রুস্তমকেও ইসলাম গ্রহণের আহবান করা হলে তিনি ক্রোধান্বিত হয়ে বলেন, ‘সমগ্র আরবের দম্ভ আমি চূর্ণ করে ছাড়ব'। সন্ধির সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সা'দের নেতৃত্বাধীন মুসলিম বাহিনী শত্রুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ফলে মুসলিম বাহিনীর সাথে পারসিক বাহিনীর প্রচন্ড যুদ্ধ শুরু হয়। অসুস্থতার জন্য সা'দ যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে না পারলেও নিরাপদ স্থান থেকে তিনি সৈন্য বাহিনীকে পরিচালনা করতে থাকেন। তিন দিনব্যাপী উভয়পক্ষের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হলো। শত্রুর বিশাল বাহিনীর কথা জানতে পেরে খলিফা উমর (রাঃ) সা'দের সাহায্যার্থে সিরিয়া থেকে কাকার নেতৃত্বে একটি সুসজ্জিত বাহিনী কাদেসিয়ার প্রান্তরে প্রেরণ করেন। যুদ্ধের দ্বিতীয় দিনে কাকা কাদেসিয়ার প্রান্তরে উপস্থিত হলেন। কাদেসিয়ার প্রান্তরে উপস্থিত হয়ে কাকা পারস্যের জেনারেল বাহমনের সাথে মল্লযুদ্ধে অংশ নেন। প্রচন্ড মল্লযুদ্ধের পর মুসলিম জেনারেল কাকার হাতে পারস্যের জেনারেল বাহমন পরাজিত ও নিহত হয়। তৃতীয় দিনে মুসলিম ও পারস্য বাহিনীর মধ্যে মরণপণ যুদ্ধ শুরু হয়। সা'দ ও কাকার নেতৃত্বাধীন মুসলিম বাহিনী প্রচন্ড যুদ্ধে পারসিক বাহিনীকে পরাজিত ও বিধ্বস্ত করতে সক্ষম হয়। যুদ্ধে পারস্য সেনাপতি রুস্তম নিহত হলে পারস্য বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে এবং মুসলিম বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। অতঃপর হযরত সা'দের কাছে খবর আসে সম্রাট ইয়াজদিগার্দ মাদায়েন থেকে প্রচুর ধন-সম্পদসহ পলায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। খলিফার অনুমতিক্রমে সা'দ ৬৩৭ খৃস্টাব্দে পারস্যের রাজধানী মাদায়েন আক্রমণ ও দখল করেন। সেখান থেকে মুসলিম বাহিনী প্রচুর ধনরত্ন লাভ করে। পারস্য সম্রাট ইয়াজদিগার্দ রাজধানী মাদায়েন থেকে পলায়ন করে একশ' মাইল দূরবর্তী হুলওয়ানে আশ্রয় গ্রহণ করেন। হযরত সা'দ শ্বেত প্রাসাদে প্রবেশ করে আট রাকাত সালাতুল ফাতাহ আদায় করেন। অতঃপর তিনি ঘোষণা দেন, এ শাহী প্রসাদে আজ জুমার নামায অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মিম্বার তৈরি করে সেখানে সালাতুল জুময়া আদায় করা হয়। এটাই ছিল পারস্যে প্রথম জুমার নামায। হযরত উমর (রাঃ) সা'দকে কুফার শাসনকর্তা নিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু কিছুদিন পর কতিপয় কুফাবাসীর মিথ্যা অভিযোগের কারণে তাঁকে কুফার গবর্নর পদ থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। হযরত সা'দ (রাঃ)-এর মধ্যে কাব্যপ্রতিভাও ছিল। সাদের কবিতার কয়েকটি চরণ ইবনে হাজার লিখিত গ্রন্থ ‘আল ইসাবা' গ্রন্থে উল্লেখ পাওয়া যায়। রাসূল (সাঃ)-এর অনেক হাদীস হযরত সা'দ বর্ণনা করেছেন। সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)-এর মধ্যে হযরত সা'দের ছিল একটি বিশেষ মর্যাদা ও অবস্থান। একদা মোজার ওপর মাসাহ সংক্রান্ত একটি হাদীস সা'দ (রাঃ) বর্ণনা করেন। হাদীসটি যাচাই করতে আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) স্বীয় পিতা উমর ইবনুল খাত্তাবের কাছে গেলে তিনি বলেন, যখন সা'দ তোমাদের কাছে কোন হাদীস বর্ণনা করে তখন সে ব্যাপারে অন্য কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা করো না। খোলাফায়ে রাশেদীনের সবাই হযরত সা'দের মতামতকে গুরুত্ব দিতেন। হযরত উসমান (রাঃ)-এর হত্যাকে কেন্দ্র করে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে এক চরম বিপর্যয় দেয়া দেয়। তখন মুসলিম উম্মাহ তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এক পক্ষ ছিল হযরত উসমানের হত্যাকারীদের বিচার প্রার্থীরা, অন্য পক্ষ ছিল হযরত উসমানের বিরুদ্ধবাদীরা উভয় পক্ষেই ছিলেন বড় বড় সাহাবায়ে কেরাম। এ দু' দলের মধ্যবর্তী আরো একটি নিরপেক্ষ শ্রেণীর লোক ছিলেন, যারা কোন মুসলমানদের বিরুদ্ধে তলোয়ার ধারণকে আদৌও যুক্তিযুক্ত মনে করেননি। এ নিরপেক্ষ দলের একজন ছিলেন হযরত সা'দ। তিনি সে সময় মদিনার নিজ গৃহে অবস্থান করেন। দশম হিজরিতে বিদায় হজ্বে রাসূল (সাঃ)-এর সঙ্গী ছিলেন হযরত সা'দ। কিন্তু হজ্বের অনুষ্ঠানাদি পালনের পূর্বেই সা'দ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। জীবনের আশা তাঁর ছিল না বললেই চলে। এমতবস্থায় রাসূল (সাঃ) তাঁকে মাঝে মধ্যে এসে দেখে যেতেন। হযরত সা'দ (রাঃ) বলেন, একদিন আমাকে দেখতে এসে রাসূলে করিম (সাঃ) আমার সাথে কথা বললেন। তিনি আমার কপালে হাত রাখলেন। এরপর হাতের স্পর্শ মুখমন্ডলের ওপর দিয়ে বুলিয়ে পেট পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। তিনি আমার জন্য দোয়া করলেন, ‘হে আল্লাহ সা'দকে সুস্থ করে দাও, তাঁর হিজরতকে পূর্ণতা দাও, তাঁর হিজরতের স্থান মদীনাতেই তাঁর মৃত্যুদান কর'। এরপর হযরত সা'দ আরো ৪৫ বছর জীবিত ছিলেন। হযরত সা'দ বলতেন, রাসূল (সাঃ)-এর হাতের শীতল স্পর্শ আজও আমি অনুভব করি। ৬৭৬ খৃস্টাব্দে [৫৫ হিজরী] মদীনা থেকে ১০ মাইল দূরে আকীক উপত্যকায় কিছুদিন অসুস্থ থাকার পর ৮৫ বছর বয়সে হযরত সা'দ (রাঃ) ইহকাল ত্যাগ করেন। তাঁর ইন্তিকালের পর হযরত আয়েশা (রাঃ) ও উপস্থিত সাহাবায়ে কেরামদের অনুরোধে তাঁর লাশ মসজিদে নববীতে আনা হয় এবং রাসূল (সাঃ)-এর স্ত্রীগণ তাঁর জানাযায় অংশগ্রহণ করেন। যে জুববাটি পরিধান করে হযরত সা'দ (রাঃ) ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাঁর অন্তিম ইচ্ছানুযায়ী সেই জুববাটি দিয়ে তাঁর কাফন দেয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট প্রশ্নসমূহ

1 টি উত্তর
09 এপ্রিল 2020 "হাদীস শরীফ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন জিলানি হোসেন (3,558 পয়েন্ট)
1 টি উত্তর
27 মে 2020 "ইসলাম ধর্ম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন নাহিয়ান (7,132 পয়েন্ট)
1 টি উত্তর
1 টি উত্তর
1 টি উত্তর
...