17 জন দেখেছেন
12 নভেম্বর 2019 "ইবাদত ও আ'মল" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (6,939 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
12 নভেম্বর 2019 উত্তর প্রদান করেছেন (6,939 পয়েন্ট)

 হজ্জ ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি স্তম্ভ। এ হজ্জ ও উমরা পালনে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দুনিয়া ও পরপারের জন্য অনেক প্রতিদান রয়েছে। নিম্নে এ বিষয়ে কিছু হাদীস উল্লেখ করা হলো :

(ক) হজ্জ পালন উত্তম ইবাদাত

১-عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سُئِلَ النَّبِيُّ -صلى الله عليه وسلم- أَيُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ إِيمَانٌ بِاللهِ وَرَسُولِهৃ قِيلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ جِهَادٌ فِي سَبِيلِ اللهِ قِيلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ حَجٌّ مَبْرُورٌ.

(১) আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা সর্বোত্তম আমল কোনটি? জবাবে রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা। অতঃপর জিজ্ঞেস করা হলোঃ তারপর কোন আমল? তিনি উত্তর দিলেন, “আল্লাহর পথে জিহাদ করা। আবার জিজ্ঞাস করা হলোঃ এরপর কোন আমল? জবাবে তিনি বললেন, “মাবরূর হজ্জ” (কবূল হজ্জ)* (বুখারী ২৬, ১৫১৯ ও মুসলিম ৮৩)

(খ) হাজীগণ আল্লাহর মেহমান

عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ الْغَازِي فِي سَبِيلِ اللهِ وَالْحَاجُّ وَالْمُعْتَمِرُ وَفْدُ اللهِ دَعَاهُمْ فَأَجَابُوهُ وَسَأَلُوهُ فَأَعْطَاهُمْ

(২) ইবনে উমর রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর পথে জিহাদকারী এবং হজ্জ ও উমরা পালনকারীরা আল্লাহর মেহমান। আল্লাহ তাদের আহ্বান করেছেন, তারা সে আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। তারা আল্লাহর কাছে যা চাইছে আল্লাহ তাই তাদের দিয়ে দিচ্ছেন। (ইবনে মাজাহ ২৮৯৩)

৩- إِنْ دَعَوْهُ أَجَابَهُمْ وَإِنِ اسْتَغْفَرُوهُ غَفَرَ لَهُمْ

(৩) অন্য হাদীসে আছে, হজ্জ ও উমরা পালনকারীরা আল্লাহর মেহমান। তারা দোয়া করলে তা কবূল হয়ে যায় এবং গুনাহ মাফ চাইলে তা মাফ করে দেয়। (ইবনে মাজাহ ২৮৯২)

(৪) তিন ব্যক্তি আল্লাহর মেহমান : ক) হাজী খ) উমরা পালনকারী গ) আল্লাহর পথে জিহাদকারী। (নাসাঈ)

(গ) হজ্জ জিহাদতুল্য ইবাদাত

৫-عن الحسن بن علي رضي الله عنهما قال جَاءَ رجلا إلى النبي -صلى الله عليه وسلم- فقال : إني جبان، وإني ضعيف، فقال : هلم إلى جهاد لا شوكة فيه : الحج – الطبراني

(৫) হাসান ইবনু আলী রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে আরজ করল আমি একজন ভীতু ও দুর্বল ব্যক্তি। তখন তিনি তাকে বললেন, তুমি এমন একটি জিহাদে চলো যা কণ্টকাকীর্ণ নয় (অর্থাৎ হজ্জ পালন করতে চলো।) (তাবারানী)

৬- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ -صلى الله عليه وسلم-قَالَ جِهَادُ الْكَبِيرِ وَالصَّغِيرِ وَالضَّعِيفِ وَالْمَرْأَةِ الْحَجُّ وَالْعُمْرَةُ

(৬) আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “বয়স্ক, শিশু, দুর্বল ও নারীর জিহাদ হলো হজ্জ এবং উমরা পালন করা”। (নাসাঈ ২৬২৬)

৭- وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّهَا قَالَتْ : يَا رَسُوْلَ اللهِ، تري الجهادَ أَفْضَلُ الْعَمَلِ، أَفَلاَ نُجَاهِدُ، لَكُنَّ أَفْضَلُ الْجِهَادِ : حَجِّ مَبْرُوْرِ- (رواه البخاري ومسلم)

(৭) আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো জিহাদকে সর্বোত্তম আমল মনে করেন। আমরা (নারীরা) কি জিহাদ করতে পারব না? উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমাদের জন্য সর্বোত্তম জিহাদ হলো মাবরূর হজ্জ (কবূল হজ্জ)।” (বুখারী ও মুসলিম)

(৮) অন্য এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

৮- عَلَيْهِنَّ جِهَادٌ لاَ قِتَالَ فِيهِ الْحَجُّ وَالْعُمْرَةُ

“হা, নারীদের উপর জিহাদ ফরয। তবে এ জিহাদে কোন মারামারি ও সংঘাত নেই। আর সেটা হলোঃ হজ্জ ও উমরা পালন করা। (আহমাদ ২৪৭৯৪)

(ঘ) হজ্জ গুনাহমুক্ত করে দেয়

৯- عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ : قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ -صلى الله عليه وسلم-يَقُولُ : مَنْ حَجَّ للهِস্ট فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهচ্

(৯) আবূ হুরাইরাহ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ” যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহকে খুশী করার জন্য হজ্জ করল এবং হজ্জকালে যৌন সম্ভোগ ও কোন প্রকার পাপাচারে লিপ্ত হল না সে যেন মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ট হবার দিনের মতই নিষ্পাপ হয়ে বাড়ী ফিরল। (বুখারী : ১৫২১)

১০- أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ الإِسْلاَمَ يَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهُ وَأَنَّ الْهِجْرَةَ تَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهَا وَأَنَّ الْحَجَّ يَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهُ

(১০) আমর ইবনুল আসকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, তুমি কি জান না ইসলাম গ্রহণ করলে পূর্বের সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়। তদ্রূপ হিজরতকারীর আগের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয় এবং হজ্জ পালনকারীও পূর্বের গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে যায়। (মুসলিম ১২১)

সংশ্লিষ্ট প্রশ্নসমূহ

1 টি উত্তর
1 টি উত্তর
16 এপ্রিল 2020 "কুরআন মাজীদ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Roki (12,845 পয়েন্ট)
1 টি উত্তর
29 মার্চ "ইসলাম ধর্ম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Md. Redowan Islam (28,768 পয়েন্ট)
1 টি উত্তর
29 মার্চ "ইসলাম ধর্ম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Md. Redowan Islam (28,768 পয়েন্ট)
1 টি উত্তর
08 ডিসেম্বর 2020 "ইবাদত ও আ'মল" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Md. Ibrahim (3,472 পয়েন্ট)
1 টি উত্তর
1 টি উত্তর
22 মার্চ 2020 "ইবাদত ও আ'মল" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন শূণ্যস্থান (89,220 পয়েন্ট)
...