26 জন দেখেছেন
13 নভেম্বর 2019 "সাধারণ জ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (89,216 পয়েন্ট)

1 উত্তর

1 টি পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
13 নভেম্বর 2019 উত্তর প্রদান করেছেন (89,216 পয়েন্ট)
উত্তরঃ 'হিলফুল ফুজুল' যার অর্থ হচ্ছে 'শান্তি সংগঠন'। রাসূল (সাঃ) ১৪ বছরে পা দিলেন। হঠাত্ করে মক্কার কুরাইশ ও কায়েস এই দুই গোত্রের মধ্যে কোনো একটা ব্যাপার নিয়ে লড়াই বেঁধে গেলো। এরকমটি প্রায়ই হতো। আর লড়াই একবার শুরু হলে তার জের চলতো বহুদিন ধরে। উভয় গোত্রের লোকেরাই তৈরী হলো। নিজেদের সেনাদল এগিয়ে দিলো। কিশোর নবীও চাচা আবু তালিবের সাথে এই লড়াইয়ে শরীক হলেন। কিশোর নবী হলেন কিশোর সেনা। তবে এই লড়াইয়ে তিনি কাউকে একটিও আঘাত করেননি। শুধুমাত্র দুশমনরা তাঁর চাচা আবু তালিবকে লক্ষ্য করে যে তীর ছুঁড়েছিলো, তিনি সেই তীর ঠেকিয়ে তাঁকে রক্ষা করেছিলেন। ৪ দিন পর্যন্ত এই লড়াই চলে। শেষে কুরাইশরা যখন বিজয় লাভ করে, তখন উভয় গোত্রের মধ্যেই একটা মিটমাট হয়ে যায়। এই যুদ্ধকে বলা হয় 'ফেজারের শেষ যুদ্ধ । এর আগে 'ফেজারে' আরো ৩টি যুদ্ধ হয়েছিলো। 'ফেজার লড়াই' যখন শেষ হলো, তখন মক্কার সব গোত্রের লোকেরা একত্র হয়ে একটি আলোচনা সভায় বসলো, যাতে ভবিষ্যতে আর এমনটি না হয়। আমাদের কিশোর নবীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। রাসূল (সাঃ)-এর চাচা 'জোবায়ের বিন আবদুল মুত্তালিব' বনী হাশেম ও বনী তামিম গোত্রের সকল তরুণ ও যুবককে ঐ সভায় একত্রিত করেন। সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিলো, হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর চাচাতো ভাই 'আবদুল্লাহ্ বিন জুদয়ানের' বাড়িতে। রাসূল (সাঃ)-এর পরামর্শ মাফিক সবাই একমত হয়ে, মিলে-মিশে থাকা তথা শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটা 'একরার নামা' বা 'অঙ্গীকার পত্র' প্রস্তাব করেন। এই 'অঙ্গীকার পত্রে' ফজল বিন ওয়াদা, ফজল বিন ফুজালা এবং ফজল ফুজাইল বিন হারেছ নামক মক্কার ৩ গোত্রপতি স্বাক্ষর করেন। তাঁদের এই কল্যাণ চুক্তির অনুকরণে রাসূল (সাঃ) পরবর্তীতে তাঁদেরই নামানুসারে নতুন এক সামাজিক যুব সংগঠন গড়ে তোলেন, যার নামকরণ করা হয়েছিলো 'হিলফুল ফুজুল'। রাসূল (সাঃ)- এর বয়স তখন ২০ বছরের কম নয়। দুনিয়ার প্রথম 'শান্তি সংগঠন'-তিনিই ছিলেন এই দলের পরিচালক। এতে ৪ জন সদস্য ছিলেন। তাঁদের নাম হচ্ছে-ফজল, ফাজেল, মুফাজ্জল ও ফাজায়েল। কেউ কেউ মনে করেন, এই ৪ জনের নামানুসারেই এই সংগঠনটির নামকরণ করা হয় 'হিলফুল ফুজুল'। সে যাই হোক, রাসূল (সাঃ) উক্ত সংগঠনের একজন উত্সাহী কর্মীরূপেও কাজ করেছিলেন। ফলস্বরূপ, দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছিলো তাঁর নাম এবং তাঁর শান্তি সংগঠন 'হিলফুল ফুজুলের' নাম। তাঁর সততা, সত্যবাদিতা, দয়া-দাক্ষিণ্য, ক্ষমা, সহিষ্ণুতা, সাহসিকতা আর আমানত দারীর নাম। মোট কথা, রাসূল (সাঃ) ২০ বছর বয়সে নৈরাজ্যকর আরবের সমাজ ব্যবস্থায় শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সামাজিক যুব সংগঠন 'হিলফুল ফুজুল' গঠন করেন।
তবকাতে ইবনে সা'আদের এক বর্ণনায় রয়েছে, রাসূল (সাঃ) বলেন, "হিলফুল ফুজুলের ন্যায় কল্যাণমূলক সংগঠনের জন্য কেউ যদি আজো ডাক দেয়, তবে আমি হৃষ্টচিত্তে তাতে যোগ দেবো।

সংশ্লিষ্ট প্রশ্নসমূহ

1 টি উত্তর
25 ফেব্রুয়ারি "সাধারণ জ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন সুজন নিয়া (53 পয়েন্ট)
1 টি উত্তর
30 মার্চ "ইসলাম ধর্ম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Md. Redowan Islam (28,768 পয়েন্ট)
1 টি উত্তর
23 ফেব্রুয়ারি "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Md. Redowan Islam (28,768 পয়েন্ট)
...